মসজিদে বিস্ফোরণে দগ্ধ শিশুর মুত্যু, বাকিরা শঙ্কায়

ঢাকার কাছে নারায়ণগঞ্জ সদরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে নামাজ পড়া অবস্থায় বিস্ফোরণে অন্তত অর্ধ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৭ জনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, দগ্ধ এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে মসজিদের এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বিস্ফোরণের কথা বলা হলেও জানা গেছে এসি থেকে নয়, গ্যাস থেকে এ বিস্ফোরণ ঘটেছে। যাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাদের কেউই শঙ্কামুক্ত নয়।

এমনটি জানিয়েছেন সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিনি ও শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের শরীরের পা থেকে মাথা পর্যন্ত ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ ঝলসে গেছে। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

এর আগে ঘটনার দিন শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৯টার দিকে বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় ইমাম, মুয়াজ্জিন, জেলা প্রশাসনের কর্মচারীসহ অন্তত ৩৭ জনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফায়ার সার্ভিস জানায়, মসজিদের তল দিয়ে গ্যাসের একটি পাইপ রয়েছে। ওই পাইপের লিকেজ দিয়ে মসজিদের ভেতরে গ্যাস জমে যায়। এর মধ্যে এসি চলার কারণে মসজিদের ভেতরে সবগুলো জানালা ও দরজা টাইট করে বন্ধ ছিল। ফলে নির্গত গ্যাস বের হতে না পারায় এ বিস্ফোরণ ঘটেছে।

সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আরেফিন বলেন, বিস্ফোরণের আগে কেউ হয়তো বাতি বা বিদ্যুতের কিছু জালানোর সময়ে স্পার্ক করে। সেই স্পার্ক থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে সেটার কারণে এসি ও বাইরের ট্রান্সফরমারেও আগুন ধরতে পারে।

এদিকে হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন গণমাধ্যমকে জানান, আহতদের চিকিৎসায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের সঙ্গে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে থাকা অন্যান্য চিকিৎসকরাও যোগ দিয়েছেন।

এলাকাবাসী জানায়, শুক্রবার এশার নামাজ শেষে মোনাজাত চলাকালে মসজিদের এসি বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এ সময় মসজিদে প্রায় ৫০-৬০ মুসল্লি ছিল। বিস্ফোরণের পর হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার সময় অনেককেই বস্ত্রহীন এবং শরীর ঝলছে যাওয়া অবস্থায় দেখা গেছে। অনেককেই কান্নাকাটি করতে করতে বের হতে দেখা যায়। মসজিদের ফ্লোর রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায়।

এদিকে বিস্ফোরণে মসজিদের দুই টনের ছয়টি এসির সবগুলোর যন্ত্রাংশ বেরিয়ে গেছে। মসজিদের ফ্যানগুলো বাঁকা হয়ে গেছে। বিস্ফোরণে মসজিদের ভেতরে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *