নীতিমালা লংঘন করে রামেক ছাত্রলীগের দায়িত্বে বিবাহিত সভাপতি

সরকার কোভিড-১৯ ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের জন্য ৩৯তম বিশেষ বিসিএস এর দ্বিতীয় ধাপে গত মে ২০২০ সনে নতুন করে দুই (২০০০) হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেন। যার মধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত হন ডাঃ মোমিনুল। তার পোস্টিং হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে, কিন্তু তিনি প্রথম দিন থেকেই করোনা ইউনিটের সরকার প্রদত্ত দায়িত্বে অবহেলা করে অন্যসব সাধারণ ওয়ার্ডে ডিউটি করেন। যা সরকারী চাকুরির নীতিমালা বিরোধী। এছাড়াও বাহিরে তিনি রোগী দেখেন ও আল্ট্রাসাউন্ড করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি একই সময়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির পদও। একই সাথে তিনি বিবাহিতও। যা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠন্তন্ত্রের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। যেখানে রামেক ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক চাকুরিতে যোগদান করার পূর্বেই সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় নিজে ছাত্রলীগের পদ থেকে পদত্যাগ করে চাকুরিতে যোগ দেন। কিন্তু কিসের লোভে ডাঃ মোমিনুল এই পদ আঁকড়ে ধরে রেখেছেন তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে।
অনুসন্ধান করে জানা যায়, তিনি এই পদ ব্যবহার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ভিতর এবং বাইরে নিয়মিত ভাবে চাঁদাবাজি করে যাচ্ছেন। প্রতিমাসে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বহিরাগতদের রামেক ছাত্রাবাসে থাকতে দিচ্ছেন। করোনাকালীন সময়ে মেডিসিন ক্লাবের নাম ব্যবহার করে জনগনের সেবা প্রদানের নামে প্রচুর পরিমানে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য রাজশাহী সদর আসনের মাননীয় সাংসদ জনাব ফজলে হোসেন বাদশা’ র কাছ থেকে এক (১) লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। এছাড়াও জানা গেছে রাজশাহী শহরের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন আসনের মাননীয় সাংসদদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিজে আত্নসাৎ করেন।
সংবাদের সত্যতা জানার জন্য রামেকের ছাত্রছাত্রীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা তাদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন সাবেক রামেক ছাত্রলীগ কর্মী মরহুম ডাঃ অমিত সিদ্দিকীর নাম করে “অমিত সিদ্দিকী স্মৃতি ফাউন্ডেশন ও পাঠাগার” এর নামে ছাত্র শিক্ষক মহলের কাছ থেকে প্রায় তিন (৩) লক্ষ টাকা নিজে আত্নসাৎ করেন। এছাড়াও অনুসন্ধানের আরো জানা যায় প্রতি ইর্ন্টানশিপ রিসিপশন প্রোগ্রামে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানিগুলো তাকে বাধ্যতামূলক সর্বনিম্ন পঞ্চাশ (৫০) হাজার টাকা না দিলে তিনি রিসিপশন প্রোগ্রাম করতে দেন না।
এখন সাধারণ ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক এবং ডাক্তারবৃন্দের মধ্যে প্রশ্ন জেগেছে যে, একজন ডাক্তার হয়ে কিভাবে এত নেক্কারজনক কাজ তিনি করতে পারেন; যার জন্য ডাক্তার সমাজ বিব্রত ও লজ্জিত। সবাই এই অবস্থার পরিত্রান চান।
এ বিষয়ে ডাঃ মোমিনুল ইসলাম জানান, সাংগঠনিকভাবে ছাত্রলীগ করার আমার অধিকার নেই, আমি পেশাজীবি ও বিবাহিত। নতুনদের সুযোগ করে দেয়া আমার দায়িত্ব। তবে সংগঠনকে ঘুছিয়ে রাখতে আমাদের মেয়র ও সিনিয়র নেতাদের পরামর্শে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েও করতে পারিনি। বাহিরে রোগী দেখার বিষয়ে তিনি জানান, বাহিরে আমার কোনো চেম্বার নেই, রোগীও দেখি না। তিনি যে কোনো সময় ছাত্রলীগের সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি বা দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে প্রস্তুত বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *